কোমল পানীয় জায়ান্ট কোকা-কোলা চলতি বছরের জন্য মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে গ্রাহক চাহিদা পরিবর্তন এবং গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কিছুটা পিছিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে এ নতুন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর সিএনবিসি।
কোকা-কোলার সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের অর্গানিক রেভিনিউ বা প্রকৃত আয় ৪-৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৭-৮ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে কোম্পানিটি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে কোকা-কোলার আয় ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোম্পানিটি তাদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলো। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত আয় ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ডলার, যা প্রত্যাশিত ১ হাজার ২০৩ কোটি ডলারের তুলনায় কম। তবে আয় কিছুটা কমলেও মুনাফার দিক থেকে কোকা-কোলা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
কোকা-কোলার বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস কুইন্সি জানান, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছেন কোম্পানি। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও উত্তর আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকায় পানীয়ের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে উত্তর আমেরিকায় বিক্রি ১ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকায় বেড়েছে ২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাধারণ কোমল পানীয়র তুলনায় স্বাস্থ্যকর ও প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির পানীয়র প্রতি গ্রাহক আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে স্মার্টওয়াটার ও ফেয়ারলাইফ ডেইরি পণ্যের চাহিদা বেশ ভালো। এছাড়া কোকা-কোলা জিরো সুগারের বিক্রি গত প্রান্তিকে ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে কোম্পানিটি নেতৃত্বেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমান চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হেনরিক ব্রাউন ৩১ মার্চ থেকে জেমস কুইন্সির স্থলাভিষিক্ত হবেন। নতুন সিইও হিসেবে ব্রাউন কোম্পানিকে আরো গতিশীল করার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।